অটিজিম্ কি ?


অটিজিম্ একটি ক্রমবিকাশজনিত প্রতিবন্ধকতা, যা শিশুর জন্ম থেকে তিন বছরের মধ্যে প্রকাশ পাবে

বৈকল্যের ত্রয়ী

  • মৌখিক ভাষার সাহায্যে অথবা অমৌখিক উপায়ে (মুখের ভাব, সংকেত ইত্যাদি ব্যবহার করে বা বুঝে) অপরের সঙ্গে যোগাযোগ বা ভাবের আদানপ্রদান করার অসুবিধা থাকা,
  • সামাজিক নিয়মগুলি যথাযথ বুঝতে না পারা এবং অন্যের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপন করার অসুবিধা থাকা,
  • কল্পনা শক্তির ব্যবহার করার, আকারহীন ভাবমূলক বিষয়ে চিন্তা করার অসুবিধা থাকা এবং শেখার ধরণ ও চিন্তাধারায় ভিন্নতা থাকা। ( এদের চাক্ষুষ দেখে কিছু শিখতে পারার বিশেষ ক্ষমতা থাকে – যা শেখানো হবে তা দেখিয়ে শেখালে এদের শিখতে সুবিধা হয়)।

পারিপাশ্বির্ক পরিস্থিতির কিছু উদ্দীপক প্রভাবে (stimuli) বেশী ভাগ অটিজিম্ সহ মানুষদের ওপর অদ্ধুত প্রতিক্রিয়া হতে পারে। একটি বা একটির বেশী জ্ঞানেন্দ্রিয়ের অনুভূতি ক্ষেত্রবিশেষে অতি-সংবেদনশীল (hypersensitive) অথবা স্বল্প–সংবেদনশীল (hyposensitive) হতে পারে।
এইসব জটীল ত্রুটি বা অসুবিধাগুলি অটিস্টিক মানুষদের মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ রূপে প্রকাশ পায় এবং স্বাভাবিক উপায়ে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি থেকে কিছু শিখতে পারার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বলা যেতে পারে – বেশী ভাগ ক্ষেত্রে এই ধরণের অস্বাভাবিক আচরণ করার কারণ হলো, যখন কোনও অটিজিম্ সহ মানুষ কোনও বিশেষ পরিস্থিতিতে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারেনা, ঐসব আচরণের সাহায্যে সে তার ক্ষমতার অভাব পূরণ করে।

অটিজিম্ সহ মানুষদের প্রত্যেকেরই অটিজিম্-য়ের মূল তিনটি লক্ষণের অসুবিধা থাকবেই, কিন্তু এই অক্ষমতাগুলি এক একজনকে এক একরকম ভাবে প্রভাবান্বিত করে। সেই কারণে প্রত্যেকটি অটিস্টিক শিশু/মানুষ একে অপরের থেকে আলাদা হয়।

অটিজিম্-য়ের অক্ষমতাগুলি বা লক্ষণগুলি গুণগত

এইটি অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে অটিজিম্জনিত ত্রুটিগুলি গুণগত – ভাবের আদানপ্রদান করার ক্ষমতা, কিছু নকল করতে পারার ক্ষমতা, খেলা করতে পারার ক্ষমতা এবং আরও অন্যান্য কার্যক্ষমতা এদের মধ্যে আছে তবে বিভিন্ন ক্ষমতাগুলি শিশুর সমবয়সীদের ক্ষমতার স্তরের সমান সমান হয়না। কখনও কখনও এই ক্ষমতাগুলির প্রকাশ অদ্ভুত হতে দেখা যায়।

অটিজিম্ স্পেক্ট্রাম ডিসঅর্ডার সম্বন্ধীয় কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য

  • অটিজিম্ থাকলে তা শিশুর প্রথম তিন বছরের মধ্যে প্রকাশ পাবে।
  • যাদের অটিজিম্ আছে তাদের মধ্যে আশি শতাংশ ছেলে।
  • অটিজিম্ চিহ্নিত হবার ঘটনা ভয়াবহ ভাবে বেড়ে চলেছে।
  • সাম্প্রতীক গণনায় জানা যায় যে ১০০ জনের মধ্যে ১ জন শিশু অটিজিম্ নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে।
  • ভারতবর্ষে ৪০ লক্ষের (4 million) ওপর অটিজিম্ সহ মানুষ আছে।
  • পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিভিন্ন ক্রমবিকাশগত প্রতিবন্ধকতার মধ্যে অটিজিম্ তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
  • ডাউন্ সিনড্রোম-য়ের থেকে অটিজিম্ বেশী দেখা যায়।
  • ভারতবর্ষে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অটিজিম্ ভুলবশতঃ মেন্টাল রিটার্ডেশান হিসাবে চিহ্নিত হয়।

এর লক্ষণ গুলি গুণগত দিক থেকে ব্যাপক রূপে ভিন্ন ধর্মী। যাদের অটিজিম্ আছে তাদের, বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসুবিধা বা লক্ষণগুলির প্রকাশের মাত্রা স্বল্প থেকে তীব্র হতে পারে। এই অসুবিধাগুলির ধরণ প্রত্যেকটি অটিজিম্ সহ মানুষের ক্ষেত্রে পৃথক পৃথক প্রভাব বিস্তার করতে পারে। কিছু কিছু অটিস্টিক শিশু/মানুষদের কথা বলার ক্ষমতার বিকাশ হয়না, আবার কেউ কেউ কথা বলতে পারে, যেগুলি শুধুমাত্র চাহিদা ভিত্তিক। প্রায় এদের সকলেরই সামাজিক পরিস্থিতি অনুযায়ী কথা বলার বা ভাবমূলক শব্দ বোঝার অসুবিধা থাকে।

অটিজিম্ স্পেক্ট্রাম ডিসঅর্ডার থাকলে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিতে কি রকম বোধ হতে পারে ?

অনেকটা একটি অজানা বিদেশে নিজেকে আবিষ্কার করার মতো অবস্থা বলা যেতে পারে – যে জায়গার ভাষা তার জানা নেই, সেখানকার সামাজিক নিয়ম কানুন সে বুঝতে পারছেনা এবং সেখানকার মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ করার উপায় তার জানা নেই।

এই অবস্থায় একজন কি অনুভব করবে? তার প্রতিক্রিয়া কি হবে? সে কি ভাবে ঐ পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারবে?

অবস্থাটি হয়ত কিছুটা ভিন্ন মাত্রায় হলেও – যাদের অটিজিম্ স্পেক্ট্রাম ডিসঅর্ডার আছে তারা যে পরিবেশে বাস করে, সেখানে তাদের এই ধরণের অনুভূতি হতে পারে।

Copyright ©2018 Autism Society West Bengal : All Rights Reserved
Site Designed and Developed by Tuli E Services