‘দীক্ষণ’ – বিশেষ শিক্ষা কেন্দ্র


যেসব ছাত্র/ছাত্রীদের অটিজিম্ আছে তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেবার স্কুল –

‘দীক্ষণ’-য়ে প্রত্যেক ছাত্র/ছাত্রীর নিজস্বতা ও আত্মসম্মানের মযার্দা দেওয়া হয়। এখানে এদের প্রত্যেকের বিশেষ কর্মদক্ষতা এবং শিক্ষাগ্রহণের ধরণের প্রতি লক্ষ রাখা হয়। যাদের অটিজিম্ আছে, বৈশিষ্টসূচক ভাবে তাদের ক্রমবিকাশের ধারা এক রকম হয়না – যার ফলে এদের কর্মক্ষমতার স্তর কার্যতঃ অনেকটা বিস্তৃত হয়। অটিজিম্-য়ের এই প্রকৃতিগত দিকটি মাথায় রেখে, এখানে শুধুমাত্র কোনও একটি বিশেষ শিক্ষা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় না। অনেকে অল্পতেই অমনোযোগী হয়ে পড়ে, অনেকে কোনও তথ্য শোনার পর সেইটির সারমর্ম গুছিয়ে বুঝে উঠতে পারেনা, কিছু শিখলে সেইটি সাধারণ ভাবে ব্যবহারিক ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে পারেনা এবং শেখা জিনিষ মনে রাখতে পারে না। সেই কারণে এখানে এমন ভাবে পাঠ্য বা কর্মসূচী গঠন করা হয়, যাতে প্রত্যেকের শেখার ধরণের বৈষম্যের দিকে লক্ষ রেখে তাদের সাহায্য করা যায়।

গবেষণা চিহ্নিত শিক্ষা পদ্ধতিগুলি যেখানে যে ভাবে কার্যকরী হয়, সেইগুলি সেখানে সেই ভাবে ব্যবহার করা হয়। এইসব পন্থাগুলির ভিত্তিতে উপযুক্ত শিক্ষাপ্রণালী গঠন করে, যাদের অটিজিম্ আছে তাদের শিক্ষাগ্রহণ করতে এবং স্বনির্ভর হতে সাহায্য করে থাকি। অভিভাবকরা স্কুল থেকে নানা তথ্য জানতে পারেন। আমরা আমাদের কাজে যথেষ্ট স্বচ্ছতা রাখতে চেষ্টা করি। আমাদের স্কুলে, আমরা ছাত্র/ছাত্রীদের মা বাবাদের শিক্ষার অধিবেশন পর্যবেক্ষণ করতে এবং তাতে যোগদান করতে উৎসাহ দিয়ে থাকি।

দীক্ষণ-য়ে ৩ বছর থেকে ১৯ বছরের ছাত্র/ছাত্রীরা সার্বিক শিক্ষা লাভ করতে আসে। ছাত্র/ছাত্রীদের প্রত্যেককে একক ভাবে এবং ছোট ছোট দলে শিক্ষা দেওয়া এবং কাজ করানো হয়। শিক্ষার সমস্ত অধিবেশনগুলিতে তাদের আচরণগত দিকগুলি সঠিক ভাবে পরিচালনার ওপর এবং অপরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন উন্নত করার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট ভাবে সংগঠিত কাঠামোগত ব্যবস্থার (structured Teaching) সাহায্যে আমরা ছাত্র/ছাত্রীদের স্বনির্ভর হবার শিক্ষা দিয়ে থাকি। এছাড়া আমরা তাদের সামাজিক ক্ষেত্রে দক্ষ, কর্মক্ষেত্রে দক্ষ এবং আবসর কাটানোর ক্ষেত্রে দক্ষ করে তোলার জন্য কাজ করি।

প্রাপ্তবয়স্কদের বিভাগ (Adult Unit) – পেশাগত প্রশিক্ষণ – ১৭ই জুন ২০০৬ সালে আমাদের এখানে একটি পেশাগত বিভাগ খোলা হয়েছে। এই বিভাগে ছাত্র/ছাত্রীদের কর্মদক্ষতা অর্জনের পদ্ধতি শেখানো হয়, যার ফলে তারা রক্ষিত কর্মশালায় বা সাধারণ কর্মক্ষেত্রে চাকরি পেতে পারে। প্রত্যেক ছাত্র/ছাত্রীর আগ্রহের বিষয় এবং কর্মদক্ষতা ভিত্তিতে যথাযত পদ্ধতিগুলি শেখানো হয়। আমরা এই প্রশিক্ষনের এমন কর্মসূচী ব্যবহার করি, যার ফলে হয়তো কোনও দিন তারা রক্ষিত কর্মশালায় বা সাধারণ কর্মক্ষেত্রে চাকরি করে উপার্জন করতে পারে।

মূলধারার স্কুলে যোগদানে সাহায্য (Mainstreaming) -

আমরা একান্ত ভাবে মনে করি যে প্রত্যেকটি শিশুর শিক্ষা অর্জনের অধিকার আছে। অল্প বয়স থেকে আমাদের কাছে নির্দিস্ট, সুপরিকল্পিত বিশেষ শিক্ষা পেয়ে কয়েকটি অটিস্টিক্ শিশু মূলধারার স্কুলে যোগদান করেছে। অটিজিম্ একটি যাবজ্জীবন সংগ্রাম। সেই কারণে যারা মূলধারার স্কুলে যাচ্ছে, আমাদের এখানে তাদের বিশেষ ভাবে তৈরী করার চেষ্টা করা হয়, যাতে এদের অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করার ক্ষমতা এবং সামাজিক নিয়ম বুঝে, তা মেনে চলার ক্ষমতা সমবয়সীদের সমতুল্য হতে পারে।

যে সব মূলধারার স্কুলে আটিজিম্ সহ শিশুরা পড়াশোনা করছে, সেইসব স্কুলের কতৃপক্ষদের সঙ্গে আমাদের আলোচনার মাধ্যমে কিছু এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যাতে তারা তাদের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারে।

অ্যাস্পারগার বিভাগ (Asperger Unit) -

অ্যাস্পারগার অর্থাৎ যেসব শিশু/মানুষদের যদিও এ এস ডি আছে, কাজের ক্ষেত্রে তারা কিছুটা উন্নত মাণের, তারা তেমন সাহায্য পায়না, কারণ তাদের প্রয়োজন বোঝার ক্ষেত্রে প্রায়ই ভুল করা হয়। যে শিশুরা মূলধারার স্কুলে যোগদান করেছে, স্কুলের শিক্ষার ওপরে তাদের এখানে নানা বিষয়ে সাহায্য করা হয়, যেমন – ভাবের আদানপ্রদান উন্নত করার ক্ষেত্রে, সামাজিক নিয়ম বুঝে যথাযথ আচরণ করার ক্ষেত্রে এবং স্কুলের পাঠ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে।

Copyright ©2018 Autism Society West Bengal : All Rights Reserved
Site Designed and Developed by Tuli E Services